সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সাত-আট বাক্যে উত্তর লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

‘বলকান সমস্যা’ বা ‘নিকট প্রাচ্য সমস্যা’ কী? এই সমস্যার মূল কারণ ও প্রভাব

বলকান সমস্যা ও নিকট প্রাচ্য সংকট: কারণ ও প্রভাব বলকান সমস্যা ও নিকট প্রাচ্য সংকটের কারণ ও প্রভাব’ সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ পোস্ট। ইউরোপের ইতিহাসে ‘ বলকান সমস্যা ’ ও ‘ নিকট প্রাচ্য সমস্যা ’ মূলত একই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দুটি পৃথক নাম। এই দুটো বিষয়কে একত্রে ‘ পূর্বাঞ্চলীয় সমস্যা ’ (Eastern Question) নামেও অভিহিত করা হয়। ‘ বলকান সমস্যা ’ বা ‘ নিকট প্রাচ্য  সমস্যা ’ : বলকান সমস্যার মূল কারণ ছিল অটোম্যান (তুর্কি) সাম্রাজ্যের  অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা। অটোম্যান সাম্রাজ্যের এই দুর্বলতা ও তার পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, তাকে কেন্দ্র করে বলকান অঞ্চলে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ই ‘ বলকান সমস্যা ’ বা ‘ নিকট প্রাচ্য সমস্যা ’ নামে পরিচিত। [ উল্লেখ্য, ‘নিকট প্রাচ্য’ শব্দটি দ্বারা উনিশ শতকে ইউরোপের সবচেয়ে নিকটবর্তী ‘প্রাচ্য’কে বোঝানো হতো, যার মধ্যে বলকান, আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) ও মিশর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ] 📌 সমস্যাটির প্রধান কারণসমূহ : অটোমান শাসনের অবক্ষয় :  ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ খ্যাত অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো (রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ...

ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব আলোচনা করো।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব আলোচনা করো। ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব আলোচনা করো। Discuss the impact of February Revolution. ১৮৪৮ সালে ফ্রান্সের ফেব্রুয়ারি বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফ্রান্স তথা ইউরোপের ইতিহাসে এই বিপ্লবের প্রভাব ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে সুদূর প্রসারী। বিশ্বব্যাপী এই প্রভাবের কারণে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবকে প্রথম সম্ভাব্য বিশ্ব-বিপ্লব বলে অভিহিত করা হয়। ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব : দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা : ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুর্জোয়া রাজতন্ত্রের পতন হয় এবং দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার স্বীকৃত : এই বিপ্লবের পর ফ্রান্সের জাতীয় প্রতিনিধি সভার দশ জন সদস্য কে নিয়ে গঠিত হয় কার্য নির্বাহক সমিতি। এই সমিতি সার্বিক প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটদানের অধিকার কে স্বীকৃতি দেয়।  চার বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সার্বিক প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ৭৫০ সদস্যের এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠিত হয়। এই আইনসভায় চার বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নীতি গৃহীত হয়। নিম্ন বুর্জোয়াদের ক্ষমতায়ন : ১৮...

মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য নেপোলিয়ন কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন? এর ফলাফল (পরিণতি) কী হয়েছিল?

 মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য নেপোলিয়ন কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার ফলাফল (পরিণতি) কী হয়েছিল? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য নেপোলিয়ন কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, এর ফলাফল (পরিণতি) কী হয়েছিল মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য গৃহীত ব্যবস্থা ঃ ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে ইউরোপে তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থচরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এই ব্যবস্থা কার্যকরী করার জন্য নেপোলিয়ন বেশ কয়েকটি ডিগ্রি জারি করেন। এগুলি হল : বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬) : এই ডিগ্রি জারি করে নেপোলিয়ন ঘোষণা করেছিলেন কোন ব্রিটিশ পণ্য যেন ফ্রান্সে ঢুকতে না পারে। যদি এই নির্দেশ অমান্য করে কোন ব্রিটিশ পণ্য ফ্রান্সে আসে তবে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। মিনাল ডিক্রি (১৮০৭) : নেপোলিয়নের বার্লিন ডিক্রি র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইংল্যান্ড অর্ডারস ইন কাউন্সিল ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ১৮০৭ সালে নেপোলিয়ন মিলন ডিক্রি জারি করেন এবং বলেন কোন জাহাজ অর্ডার ইন কাউন্সিল অনুসারে ইংল্যান্ডের নিকট থেকে লা...

মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কী? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য

মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কী? নেপনিয়ন কেন এই ব্যবস্থা ঘোষণা করেছিলেন? অথবা, মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী ছিল? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কী? মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা : ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে নীলনদের যুদ্ধে, ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ট্রাফালগারের যুদ্ধে ইংরেজ নৌবাহিনী যেভাবে ফরাসি নৌবাহিনীকে তছনছ করে দিয়েছিল তাতে নেপোলিয়ন অনুভব করেছিলেন যে, নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করা সহজ হবে না। এই পরিস্থিতিতে তিনি ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করে ফ্রান্সের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সেটি মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) নামে পরিচিত। মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য : নিম্নলিখিত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নেপোলিয়ন মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা জারি করেন। ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে বন্ধ করে ইংল্যান্ডের শিল্প বাণিজ্য ধ্বংস করা। ব্রিটিশ পণ্যের সাথে ইউরোপে ফরাসি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করা। মূলত নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে সবচেয়ে বড় বা...

ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব

ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য : ভিয়েনা সম্মেলনের ত্রুটি : ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে এর বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। ১) যুগধর্মকে অস্বীকার :   এই যুগের চাহিদা ছিল আধুনিক গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও উদারনৈতিক ভাবধারাকে মূল্য দেওয়া। কিন্তু ভিয়েনা সম্মেলনের প্রতিনিধিরা এই যুগধর্মকে অস্বীকার করে পুরাতনতন্ত্রকে ফিরে এনেছিলেন। ২) ভূখণ্ড দখল :   ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্যোক্তারা মুখে ন্যায় ও সততার কথা বললেও বাস্তবে পরাজিত দেশগুলির ভূখণ্ড দখল করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ৩) বৃহৎ রাষ্ট্রশক্তির আধিপত্য :   ভিয়েনা সম্মেলন নামে মাত্রই ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মেলন ছিল। মূলত এই সম্মেলনকে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল চারটি বৃহৎ রাষ্ট্রশক্তি। এরা হলো অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রাশিয়া ও ইংল্যান্ড। অন্যেরা ছিল কেবলমাত্র ‘শোভাবর্ধনকারী’ মাত্র। ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব / তাৎপর্য / প্রভাব ঃ তবে এই সমস্ত ত্রুটি সত্ত্বেও এই সম্মেলনের প্রভাব হয়েছিল সুদূর প্রসারী। কেননা, প্রথমত : ভিয়েনা সম্মেলন পরবর্তী প্রায় ৪০ বছর ইউরোপকে ...

ভিয়েনা সম্মেলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য

ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য The real purpose of the Vienna Conference ১৮১৫ সালে অনুষ্ঠিত ভিয়েনা সম্মেলনের প্রতিনিধিদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ছিল। সমস্যাগুলি হল - ১) ইউরোপের পুনর্গঠন, ২) ফ্রান্স যাতে পুনরায় ইউরোপে শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা এবং তিন পোল্যান্ড ইতালি জার্মানি প্রভৃতি জাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। ভিয়েনা সম্মেলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে এই সমস্যার সমাধান তারা করতে পারেনি। কারণ ভিয়েনা সম্মেলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল : ফরাসি বিপ্লব ঘোষিত জাতীয়তাবাদ ও উদারনৈতিক ভাবধারা দমন করা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, ফরাসি বিপ্লবের ভাবধারা যাতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তা নিশ্চিত করা, এবং সর্বোপরি ক্ষতিপূরণের দোহাই দিয়ে চারটি বৃহৎ শক্তির (ইংল্যান্ড, রাশিয়া, রাশিয়া এবং অস্ট্রিয়া) ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল আত্মসাৎ করা। ভিয়েনা সম্মেলনের ত্রুটি : ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে এর বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে : এই যুগের চাহিদা ছিল আধুনিক গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও উদারনৈতিক ভাবধারাকে মূল্য দেওয়া। কিন্তু ভিয়েনা ...

টেনিস কোর্টের শপথ-এর গুরুত্ব

টেনিস কোর্টের শপথ-এর গুরুত্ব লেখো। টেনিস কোর্টের শপথ-এর গুরুত্ব টেনিস কোর্টের শপথ-এর গুরুত্ব,টেনিস কোর্টের শপথ-এর ফলাফল, টেনিস কোর্টের শপথ-এর তাৎপর্য, ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ ১৭৮৯ সালের ২০ জুন জাতীয় সভার অধিবেশন কক্ষের সামনে অবস্থিত টেনিস কোর্টে এই মর্মে শপথ নেন যে, ফ্রান্সের জন্য নতুন সংবিধান রচনা না করা পর্যন্ত এই স্থান ত্যাগ করবেন না। এই ঘটনা টেনিস কোর্টের শপথ নামে পরিচিত। টেনিস কোর্টের শপথ ফ্রান্সের ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কেননা,  আন্দোলনের চাপে পড়ে রাজা তৃতীয় সম্প্রদায়ের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন ঃ রাজা ফরাসি জনগণের তিন সম্প্রদায়ের একত্রে অধিবেশন কক্ষে বসার দাবি মেনে নেন। তৃতীয় সম্প্রদায়ের জন্য মাথা পিছু ভোটাধিকারের স্বীকার করে নেন। এই ঘটনা ফ্রান্সের ইতিহাসে বুর্জোয়া বিপ্লব নামে পরিচিতি পায়। বলা যায় মূলত এই সময় থেকে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়। ------------xx---------------

মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র

  মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র কী? এই ঘোষণাপত্রের মূলকথা কী ছিল? ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট ফ্রান্সের 'সংবিধান সভা' একটি ঘোষণাপত্রে মানুষের অধিকারের কথা ঘোষণা করে।  এটি রচিত হয়েছিল 'আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র', রুশো ও লকের দার্শনিক মতবাদ ও ইংল্যান্ডের 'বিল অব রাইটস' প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে।  এই ঘোষণাপত্রটি  'মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণা’  নামে পরিচিত।   মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণায়  বলা হয় - ১) স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার ও পবিত্র অধিকার।  ২) আইনের চোখে সকলেই সমান। ৩) আইনের উৎস হল জনমত। ৪) সম্পত্তির অধিকার একটি পবিত্র অধিকার। ৫) স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও মতামত প্রকাশের অধিকার সকলের আছে। ৬) সমস্ত নাগ্রিকের ওপর করভার সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ৭) আইনি সাহায্য ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা বা কারাদন্ড দেওয়া যাবে না। আসলে এই ঘোষণাপত্রের দ্বারা ফরাসি বিপ্লবের তিনটি আদর্শ - সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক 'বাস্তিল দুর্গ' ধ্বংসের গুরুত্ব কী ছিল? ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করে প্যারিসও ভার্সাই-এ সেনা মোতায়েন করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই উত্তেজিত জনতা প্যারিসের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ দখল এবং ধ্বংস করে। বাস্তিল দুর্গের পতন ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব : প্রথমত, বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক। এই বিশাল দুর্গে রাজা ও রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাজা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। দার্শনিক ভলতেয়ারও রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার জন্য বাস্তিল দুর্গে বন্দি ছিলেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে ফরাসি রাজতন্ত্রের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতার দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ফরাসিরাজতন্ত্রের গর্বের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ ধ্বংসের ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে অনেকগুলি ধাপ অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, বাস্তিল দুর্গের পতন প্রমাণ করেছিল যে রাজ...

ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫) পটভূমি

ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫) পটভূমি কী ছিলো? সম্রাট নেপোলিয়ন লাইপজিগের যুদ্ধে (১৮১৩) চতুর্থ শক্তিজোটের কাছে পরাজিত হয়ে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হন। এর পর বিজয়ী শক্তিবর্গ ভিয়েনায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিলিত হয়। এই সম্মেলন ভিয়েনা সম্মেলন নামে পরিচিত। ভিয়েনা সম্মেলনের পটভূমি / প্রেক্ষাপট [১] জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা :  নেপোলিয়নের পতনের পর বিজয়ী ইউরোপীয় রাজতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করে এবং স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা শুরু করে। [২] ইউরোপের পুনর্গঠন : ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তীব্র সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে ইউরোপের বিভিন্ন ভুখন্ড দখল করে। তাঁর পতনের (১৮১৪) পর সেই সব বিজিত স্থান পুনর্দখল করে ইউরোপের মানচিত্র পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু করে। [৩] ন্যায্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠা : নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন শাসককে সিংহাসনচ্যুত করেছিলেন। এখন নেপোলিয়ন-বিজয়ী শক্তিবর্গ সেসব দেশের সিংহাসনে ন্যায্য রাজবংশগুলিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। উপসংহার: সুতরাং নেপোলিয়নের শাসনকালে ইউরোপের মানচিত্রে যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে তা পূর্বাবস্থায় ...

ফ্রান্স 'ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর'

কে ফ্রান্সকে ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’বলেছেন? কেন বলেছেন? বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ফ্রান্সকে 'ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলেছেন। প্রথমত, তিনি বলেন ফ্রান্সে প্রচলিত করব্যবস্থা ছিল বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত। দ্বিতীয়ত, ফরাসি সমাজের অধিকারভোগী শ্রেণি যাজক ও অভিজাতরা ছিলেন অধিকাংশ জমির মালিক; কিন্তু এজন্য তারা কোনো কর দিতেন না। তৃতীয়ত, অপরদিকে অধিকারহীন শ্রেণির দরিদ্র কৃষকদের সমস্ত কর দিতে হত। সর্বপরি, ত্রুটিপূর্ণ অর্থনীতির জন্য দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং দরিদ্র মানুষ সীমাহীন দুর্দশার মধ্যে পড়ে। এই সমস্ত কারণে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ফ্রান্সকে 'ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলেছেন।

ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অবদান লেখো ফরাসি সমাজ ও পরিবারে পুরুষের মত নারীর সমান অধিকার ছিল না। তা সত্বেও তারা ফরাসি বিপ্লবে নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিপ্লবের শুরু থেকেই তারা পুরুষ বিপ্লবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ফরাসি বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা : ১) গ্রাম অঞ্চলে ফ্রান্সের রাজাদের অত্যাচার ছিলো খুব বেশি। আর বেশির ভাগ গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর মানুষের বসবাস করতো। তাই খুব সহজেই গ্রামের নারী সমাজ এই অত্যাচারের প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছিল। ২) ১৭৮৯ সালের শেষের দিকে ফ্রান্সের গ্রাম অঞ্চলে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে গ্রামের নারীরা প্রতিবাদে নেমে পড়ে, সম্রাটের বিরুদ্ধে। ৩) খাদ্যের অভাবের সময়ে প্রায় ১০০০০ মহিলা রাজ প্রাসাদ অভিযান করে, ও রুটি চাই স্লোগান দিতে থাকে। এক সময় রাজপ্রাসাদ ঘিরে রক্ষীদের হত্যা ও বন্ধি করে ফেলে। ৪) ১৭৯২ সালে টুইলারিস প্রাসাদ অবরোধের সময় (১০ই আগস্ট) এবং জাতীয় সম্মেলনে (২১ সেপ্টেম্বর ) রাজতন্ত্রের উচ্ছেদের পক্ষে নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ৫) ১৭৯৩ সালে নারীসমাজের অধিকার ও প্রজাতন্ত্রের পক্ষে 'বিপ্লবী প্র...

📘 নবম শ্রেণি 📘 : 👩 যে অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর চাও তাতে ক্লিক করো

------------------------------------------------------------------------

OUR BOOKS FOR WBBSE & WBCHSE

OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)

------------------------------------------------------------------------

নবম শ্রেণির জনপ্রিয় প্রশ্নগুলো পড়ো :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

 ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল Causes and consequences of the Crimean War ক্রিমিয়ার যুদ্ধ : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে রাশিয়া তুরস্ক দখল করার চেষ্টা করলে, বলকান অঞ্চলে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয় যা, বলকান সমস্যা নামে পরিচিত। মূলত এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৮৫৩ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালির পিডমন্ট-সার্ডেনিয়া সহ কিছু দেশ তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ কে দু ভাগে ভাগ করা যায়।  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ কারণ : রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধি : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণে বলকান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে রাশিয়া ১৮৩০ সালে তুরস্কের কাছ থেকে বসফরাস ও দার্দানেলস প্রণালীতে রুশ জাহাজ চলাচলের অধিকার আদায় করে। রাশিয়ার এই শক্তি বৃদ্ধিতে ইংল্যান্ড ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তুরস্ক দখলের পরিকল্পনা : ১৮৫৩ সালে রাশিয়া ইংল্যান্ড এর কাছে তুরস্ককে ব্যবচ্ছে...

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের পিছনে দার্শনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরো প্রমূখ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবে মন্তেস্কুর অবদান : ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দা স্পিরিট অফ লজ’ । এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি রাজার ‘স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্ব’ নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ‘দ্য পারসিয়ান লেটারস’ -এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে পৃথক করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য ধনবন্টন ও ভোটাধিকারের দাবি করেন। ফরাসি বিপ্লবে ভলতেয়ারের অবদান : ভলতেয়ার ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কাঁদিদ’ -এর মাধ্যমে ফরাসি গির্জার দুর্নীতি কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অনাচারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোল...

ফরাসি বিপ্লবের কারণ

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের জন্য রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারন গুলি আলোচনা কর।  অথবা, ফরাসি বিপ্লবের কারনগুলি আলোচনা কর। ফরাসি বিপ্লব ঃ ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের ইতিহাসে নয়, গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।এই বিপ্লব হওয়ার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা অভাব অভিযোগ। ঐতিহাসিক লেফেভরের-এর মতে ফরাসি বিপ্লবের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে তার অতীত ইতিহাসের মধ্যে। ফরাসি বিপ্লবের কারন ‌ফরাসি বিপ্লবের পিছনে প্রকৃতপক্ষে তিনটি কারণ দায়ী ছিল-  ‌১) রাজনৈতিক কারন ২) সামাজিক কারণ ৩) অর্থনৈতিক কারণ ফরাসি বিপ্লবের  রাজনৈতিক কারন ফরাসি বিপ্লব ছিল প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বুঁরবো রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।রাজারা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা বংশানুক্রমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। রাজাদের দুইরকম ভাবে শাসনকার্য চালাত-- ক) রাজাদের দুর্বল শাসন : ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই(১৬৪৩-১৭১৫ খ্রীঃ) বিলাস ব্যসনে মগ্ন থেকে স্বৈরাচারী ক্ষমতার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।তিনি বলতেন “আমিই রাট্র”। পরবর্তী রাজা...

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল কেন?

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের কারণ ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায়। ১) কৃষি বিপ্লব : নবজাগরণের ফলে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়। নতুন ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। এই কৃষি বিপ্লব শিল্পবিপ্লবকে কাঁচামাল দিয়ে সাহায্য করেছিল। ২) সুলভ শ্রমিক : ষোড়শ শতক থেকে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বর্ধিত জনসংখ্যা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুলভ শ্রমিকের যোগান দিয়েছিল। ৩) মূলধনের প্রাচুর্য : ১৭ শতক থেকে ইংল্যান্ড বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। এই মুনাফা শিল্পের প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিয়েছিল। ৪) বাজার : ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বে জয়লাভের ফলের শিল্প পণ্যের বাজার পেতে সুবিধে হয়েছিল। ৫) খনিজ : শিল্পের প্রয়োজনীয় খনিজসম্পদ যেমন লোহা ও কয়লা ইংল্যান্ডে প্রচুর পাওয়া যেত। ৬) উন্নত পরিবহন : নবজাগরণ ও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এই পরিবহন ব্যবস্থা শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করেছিল। এই সমস্ত অনুকূল পরিবেশ ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে সাহায্য করেছি...

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা আলোচনা করো  উ. ভূমিকা: ফরাসী বিপ্লবের আগে প্রায় তিন শতাব্দির বেশি সময় ইতালি পরস্পর বিরোধী বিভিন্ন ছোটবড় রাজ্যে বিভক্ত ছিল. এখানকার অধিকাংশ রাজ্যে বিদেশীদের আধিপত্য ছিল। ইটালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির অবদান : ইটালির ঐক্য আন্দোলনে যে তিনজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ অসামান্য অবদানের সাক্ষর রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীর দেশপ্রেমিক গ্যারিবল্ডি (১৮০৭-১৮৮২ খ্রি) । ১. আন্দোলনে যোগদান ও দেশত্যাগ: গ্যারিবল্ডি ১৮৩৩ সালে ম্যাটসিনির সংস্পর্শে এসে ইয়ং ইটালি দলের সদস্য হন। তিনি ম্যাৎসিনি নেতৃত্বে স্যাভয়-এর বিদ্রোহে যোগ দিলে তার প্রাণদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। ২. ১৮৪৮ এর বিপ্লব : ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিতে বিপ্লব শুরু হলে, গ্যারিবোল্ডি ইতালিতে ফিরে আসেন এবং রোমে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ম্যাৎসিনি অন্যতম সহকারী হিসাবে কাজ করেন। ৩. সিসিলি ও নেপলস জয় : গ্যারিবোল্ডি ‘লাল কোর্তা’ নামে সেনাদল গঠন করে দক্ষিন ইটালির সিসিলি ও নেপলস অভিযান করেন। সেখানকার বুরব রাজবংশকে পরাস্ত করে তিনি সিসিলি ও নেপলস (১৮৬০ খ্রি:) করেন। ৪. প্রজাতন...

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় - কারণ ব্যাখ্যা কর। নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন? নেপোলিয়ান এক অতি সাধারন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফ্রান্সের সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের উন্মেষ ঘটেছিল, তার সৌজন্যেই। আর একারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবের সন্তান। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতার আদর্শকে তিনি আজীবন সম্মান দেখাননি। নেপনিয়নকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলার কারণ : তাঁর এই বিপ্লবের সন্তান হয়ে ওঠার পিছনে আরও যেসব সমস্ত বিষয় গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা নিয়েছিল তা হল : ১) বিপ্লবী আদর্শের বাস্তবায়ন : ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের সংবিধান সভা সে-দেশ থেকে সামন্ত প্রথা, ভূমিদাস প্রথা, করভি বা বেগর শ্রম, টাইট বা ধর্মকর ইত্যাদি বিলোপ ঘটিয়েছিল। নেপোলিয়ান ক্ষমতায় আসার পর বিপ্লবী সরকারের এইসব নিয়মকে সচেতন ভাবেই বহাল রেখেছিলেন। ২) বিপ্লবী আদর্শের প্রসার : শুধু বহাল রাখাই নয়, বিপ্লবের মূল মন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩) পুরাতন তন্ত্রের ধ্বংস সাধন : ফ্রান্সের ...

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতিগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি ১৮১৫ সালে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ ইউরোপের পুনর্গঠন এর উদ্দেশ্যে যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি নামে পরিচিত। এই নীতি গুলি ছিল ১) ন্যায্য অধিকার নীতি ২) ক্ষতিপূরণ নীতি এবং ৩) শক্তিসাম্য নীতি। ভিয়েনা সম্মেলনের মূল নীতিগুলি হল, ১ ) ন্যায্য অধিকার নীতি :  এই নীতির মূল কথা হলো ইউরোপে বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজবংশ গুলিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এই নীতির ফলে ফ্রান্সে বুুুরবোঁ বংশ হল্যান্ডে  অরেঞ্জ বংশ , তা নিয়ায় ভিদ্মতে  সাতবাহন বংশ এবং  মধ্য ইতালীতে  পোপ  ক্ষমতা লাভ করে। ২) ক্ষতিপূরণ নীতি :   এই নীতির মূল কথা হলো ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই নীতি প্রয়োগ করে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরের নেপোলিয়ন অধিকৃত ভূখণ্ড গুলি ভাগাভাগিি করে। ৩) শক্তিসাম্য নীতি :  ভবিষ্যতে ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি নষ্ট না করতে তা নিশ্চিত করা এই নীতির মূল লক...

কোড নেপোলিয়ন কী?

কোড নেপোলিয়ন বলতে কী বোঝো? কোড নেপোলিয়ন-এর মাধ্যমে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কীভাবে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করেন? কোড নেপোলিয়ন কী ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সংস্কার কর্মসূচিগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হল ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoleon) বা আইনবিধি প্রবর্তন। তার শাসনকালের পূর্বে ফ্রান্সের নানা স্থানে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক ও পরস্পরবিরোধী আইন প্রচলিত ছিল। নেপোলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সে একই ধরনের আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে ৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আইনবিধি সংকলিত হয়, তা ‘কোড নেপোলিয়ন’  নামে খ্যাত। কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য ঃ ২২৮৭টি বিধি সংবলিত এই আইন সংহিতা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল— দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক আইন। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এই আইন সংহিতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।  নেপোলিয়ন বিপ্লবের আদর্শ, প্রাকৃতিক আইন ও রোমান আইনের সমন্বয় সাধন করে কোড নেপোলিয়ন রচনা করেছিলেন। প্রথমত: এই আইনের ফল...

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক 'বাস্তিল দুর্গ' ধ্বংসের গুরুত্ব কী ছিল? ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করে প্যারিসও ভার্সাই-এ সেনা মোতায়েন করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই উত্তেজিত জনতা প্যারিসের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ দখল এবং ধ্বংস করে। বাস্তিল দুর্গের পতন ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব : প্রথমত, বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক। এই বিশাল দুর্গে রাজা ও রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাজা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। দার্শনিক ভলতেয়ারও রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার জন্য বাস্তিল দুর্গে বন্দি ছিলেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে ফরাসি রাজতন্ত্রের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতার দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ফরাসিরাজতন্ত্রের গর্বের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ ধ্বংসের ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে অনেকগুলি ধাপ অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, বাস্তিল দুর্গের পতন প্রমাণ করেছিল যে রাজ...

মেটারনিক তন্ত্র কী?

  মেটারনিক তন্ত্র কী? What is Metternich System? ফরাসি বিপ্লবের ফলে ইউরোপে উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদ সহ নানান আধুনিক ভাবধারা ছড়িয়ে পড়ে। নেপোলিয়নের পতনের পর অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয় রক্ষণশীলতার জনক মেটারনিক ইউরোপকে ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব থেকে মুক্ত করে পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে তীব্র দমনমূলক ও রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং সমগ্র ইউরোপে তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তা ‘ মেটারনিক তন্ত্র ’ বা ‘ মেটারনিক ব্যবস্থা ’ বা  ‘ মেটারনিক পদ্ধতি ’  নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থার ফলে ইউরোপ প্রায় ত্রিশ বছরের (১৮১৫ - ১৮৪৮) জন্য যুদ্ধজনিত অশান্তি ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত ছিল। এটাই মেটারনিক তন্ত্রের উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব। আর এই কারণে এই সময়কালকে ঐতিহাসিক ফিশার ‘ মেটারনিক যুগ’ নাম অভিহিত করেছেন।  ---------xx------- বিকল্প প্রশ্ন : ১) ‘মেটারনিক ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝ? ২) কোন সময়কে কেন ‘মেটারনিক যুগ’ বলা হয়। ৩) ‘মেটারনিক পদ্ধতি’ কী?