দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল সংক্ষেপে আলোচনা করো। নবম শ্রেণির ইতিহাস পাঠের সুবিধার্থে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণ ও ফলাফলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯–১৯৪৫) মানব সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতগুলোর একটি। এর কারণ ও ফলাফল নিচে আলোচনা করা হলো: 🔹 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ (Causes) 1. অসম ও কঠোর ভার্সাই চুক্তি: জার্মানিকে একক দোষী সাব্যস্ত করে বিশাল ক্ষতিপূরণ ও সামরিক সীমাবদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়; এতে প্রতিশোধের মনোভাব জন্মায়। 2. ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্ব: জার্মানি, ইতালি ও জাপান ব্রিটেন-ফ্রান্সের বিশাল উপনিবেশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নিজেদের দাবি তোলে; ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ ও জাপানের মাঞ্চুরিয়া-চীন আগ্রাসন এ দ্বন্দ্বকে তীব্র করে। 3. নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের ব্যর্থতা: লীগ অব নেশনসের উদ্যোগে ১৯৩২–৩৪ সালের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হয়; জার্মানি সম্মেলন ত্যাগ করে এবং পুনরায় সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। 4. ইঙ্গ-ফরাসি তোষণনীতি: ব্রিটেন ও ফ্রান্স হিটলারের রাইনল্যান্ড দখল, অস্ট্রিয়া সংযুক্তি ও মিউনিখ চুক্তি পর্যন্ত সহ্য করে; এতে হিটলার আরও আক্রমণাত্মক হয...
জাতিসংঘের ব্যর্থতার কারণ কী? নবম শ্রেণির ইতিহাস (পঞ্চম অধ্যায়): বিশ্বশান্তি রক্ষায় লীগ অব নেশনস বা জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্ররূপ। ভূমিকা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত লীগ অব নেশনস (League of Nations বা জাতিসংঘ) বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি শুরুতেই মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা করলেও এর সাংগাঠনিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। জাতিসংঘের ব্যর্থতার কারণ জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলোকে কয়েকটি মূল পয়েন্টে ভাগ করা যায়: ১. পরাশক্তিগুলোর অনুপস্থিতি ও উদাসীনতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: জাতিসংঘের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস (সিনেট) এতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়, যা সংস্থাটিকে শুরুতেই দুর্বল করে ফেলে। সদস্যদের আসা- যাওয়া: সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেক পরে (১৯৩৪) এতে যোগ দেয় এবং ১৯৩৯ সালে ফিনল্যান্ড আক্রমণের জন্য বহিষ্কৃত হয়। জার্মানি এবং জাপান ১৯৩৩ সালে জাতিসংঘ ত্যাগ করে। অন্যদিকে ইতালি ১৯৩৭ সালে ...