} --> সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চোদ্দো দফা নীতি কী? | What is the Fourteen Points? (Woodrow Wilson's Fourteen Points)

চোদ্দো দফা নীতি’ কী? Woodrow Wilson's 14 Points: Objectives & Historical Impact উড্রো উইলসনের ১৪ দফা নীতি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা। ভূমিকা : ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে যে ১৪টি শর্ত পেশ করেন, তা ইতিহাসে ‘ চোদ্দো দফা নীতি ’ নামে পরিচিত। 📌 মূল বিষয়বস্তু: এই নীতির মূল কথা ছিল— ✅ গোপন কূটনীতি বর্জন ও সব দেশের মধ্যে খোলামেলা চুক্তি করা। ✅ সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা ও বাণিজ্যের ওপর অযথা কর আরোপ না করা। ✅ অস্ত্র হ্রাস করা এবং উপনিবেশগুলোর স্বার্থ বিচারের সময় সেখানকার জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া। ✅ সর্বোপরি, ‘ জাতীয়তাবাদ ’ (ন্যাশনালিটি)-এর ভিত্তিতে ইউরোপের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা এবং একটি ‘ জাতিসংঘ ’ (লীগ অফ নেশনস) গঠন করা, যা বিশ্বশান্তি রক্ষা করবে। 📌 ঐতিহাসিক প্রভাব: এই নীতিই পরবর্তীকালে প্যারিস শান্তি সম্মেলন (১৯১৯)-এর আলোচনার ভিত্তি রচনা করে এবং উইলসনের স্বপ্ন মতো জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও, মার্কিন কংগ্রেস নিজেই তাতে যো...

‘এপ্রিল থিসিস’ কে কেন ঘোষণা করেন?

‘এপ্রিল থিসিস’ কে কেন ঘোষণা করেন? Background, Purpose & Significance of April Theses ১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিন কেন ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেছিলেন তার সহজ ভাষায় উত্তর  ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৯১৭ সালের এপ্রিলে ‘ এপ্রিল থিসিস ’ ঘোষণা করেন মূলত রুশ বিপ্লবের (ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী পথনির্দেশ ও বলশেভিক পার্টির কৌশল পরিবর্তন করার জন্য। সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ নির্বাসনের পর রাশিয়ায় ফিরে তিনি দেখতে পান যে, ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার ও সোভিয়েত নেতৃত্ব বিপ্লবের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে। তাই তিনি একটি নতুন বিপ্লবী দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন। মূলত এই কারণে রাশিয়ার বুর্জোয়া বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি ‘ এপ্রিল থিসিস ’ ঘোষণা করেন। ----------xx----------- 📌 এই প্রশ্নটি ঘুরিয়ে অন্য যে ভাবে আসে : বিকল্প প্রশ্ন : ‘এপ্রিল থিসিস’ কী? লেনিন ‘এপ্রিল থিসিস’ কেন ঘোষণা করেন? ‘এপ্রিল থিসিসে’র মূল লক্ষ্য কী ছিল? কে কী উদ্দেশ্যে ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেন? 📌 এই অধ্যায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন : ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কী প্রভ...

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ বা পটভূমি আলোচনা করো | Class 9 History 8 Mark Question

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ বা পটভূমি আলোচনা করো। চিত্র: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ, সারায়েভো হত্যাকাণ্ড, জোট ব্যবস্থা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা (Class 9 History Note) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এর পেছনে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্বের প্রভাব সক্রিয় ছিল। নিচে এগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হলো। 📌 (ক) দীর্ঘমেয়াদি কারণ বা পটভূমি : ১. চরম জাতীয়তাবাদ : প্যান-আন্দোলন : এই সময়ে স্লাভ, জার্মান প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠী নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে। প্যান-স্লাভবাদ (সমস্ত স্লাভদের এক হওয়া) ও প্যান-জার্মানবাদের প্রসার ইউরোপকে অস্থির করে তোলে। ফ্রান্সের প্রতিশোধস্পৃহা : ১৮৭১ সালে জার্মানির কাছে ফ্রান্সের আলসাস-লোরেন অঞ্চল হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকট ছিল। ২. সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা : কাঁচামাল ও বাজার দখল : ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের পর কাঁচামাল ও বাজারের প্রয়োজনে দেশগুলো আফ্রিকা, এশিয়া আগ্রাসী উপনিবেশ স্থাপনে প্রতিযোগিতায় নামে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একাধিপত্য : এই প্রতিযোগিতায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একা...

‘মীর’ কী?

‘মীর’ বলতে কী বোঝানো হয়? চিত্র ১: রাশিয়ার ‘মীর’ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (যেমন: যৌথ মালিকানা, স্বশাসন) এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের একটি সংক্ষিপ্ত দৃশ্যমান সারসংক্ষেপ। ১৮৬১ সালে দ্বিতীয় আলেকজান্ডার আইন করে সার্ফদের (ভূমিদাস) মুক্তি দিলে জমিদারের পরিবর্তে জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‘ গ্রাম সমবায় সমিতি ’ নামে একটি সংস্থার কাছে। রাশিয়ার ইতিহাসে এই  সমিতি ‘ মির ’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ ‘মির’ (Mir) শব্দটির মাধ্যমে মূলত জারবাদী রাশিয়ার কৃষক সম্প্রদায় বা গ্রামীণ সমবায় সমিতি (Village Commune)-কে বোঝানো হতো। মির ছিল রুশ কৃষি সমাজের ভিত্তি, যা ষোড়শ শতক থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক পর্যন্ত টিকে ছিল। আধুনিক রুশ ভাষায় ‘মির’ মানে ‘শান্তি’ বা ‘বিশ্ব’; তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে  শব্দটি ‘সম্প্রদায়’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ----------xx----------- মনে রেখো 📍পঞ্চম অধ্যায়ের সব বড় প্রশ্নের উত্তর একসাথে পেতে 👉 এখানে ক্লিক করো এই প্রশ্নটি ঘুরিয়ে অন্য যেভাবে আসতে পারে : মির শব্দের অর্থ কী? এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। রাশিয়ার ইতিহাসে ‘মির’ বলতে কী বোঝানো হয়? রাশিয়ার ইতিহাসে ‘গ্রাম সমবায় স...

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন : রুশ বিপ্লবের জনক

কাকে, কেন ‘রুশ বিপ্লবের জনক’ বলা হয়? রুশ বিপ্লবের জনক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ও বলশেভিক বিপ্লব ভূমিকা: ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনকে ‘ রুশ বিপ্লবের জনক ’ বলা হয়। কারণ, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের তাত্ত্বিক ভিত্তি , নেতৃত্ব ও সাফল্যের কৃতিত্ব মূলত তারই প্রাপ্য। যে যে কারণে লেনিনকে ‘বিপ্লবের জনক’ বলা হয়: ১. আদর্শগত ভিত্তি:  তিনি মার্ক্সবাদকে রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করেন এবং বিপ্লবের তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা দেন। ২. বলশেভিক দলের নেতৃত্ব:  তাঁর নেতৃত্বেই বলশেভিক পার্টি একটি সুসংহত বিপ্লবী সংগঠনে পরিণত হয়, যা জারের পতনের পরবর্তী শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম ছিল। ৩. এপ্রিল থিসিস (April Theses):  ১৯১৭ সালের এপ্রিলে তিনি যে বিখ্যাত কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তাতে যুদ্ধ বন্ধ, কৃষকদের হাতে জমি এবং শান্তির ( 'রুটি, জমি ও শান্তি' অর্থাৎ Peace, Land, and Bread) -র) সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ৪. জনপ্রিয় স্লোগান:  ‘ সকল ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে ’ – এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। ৫. কৃষক-শ্রমিক জোট:  জম...

রুশ বিপ্লবের কারণ ও পটভূমি – ক্লাস ৯ ইতিহাস নোট

১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের কারণ বা পটভূমি আলোচনা করো। ১৯১৭ সালের পেট্রোগ্রাদে রুশ বিপ্লবের ঐতিহাসিক দৃশ্য উত্তর: রুশ বিপ্লব হঠাৎ করে হয়নি। এর পেছনে জারতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসন, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাত্রা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছিল রুশ বিপ্লবের প্রধান কারণগুলো (1917 Russian Revolution Causes)। রুশ বিপ্লব বা নভেম্বর বিপ্লবের কারণ : ১. জার দ্বিতীয় নিকোলাসের স্বৈরাচারী শাসন:  জার ছিলেন একনায়কতান্ত্রিক শাসক। তিনি ‘ ডুমা’র (গণপরিষদ) ক্ষমতা খর্ব করে এবং সকল বিরোধী মত দমন করে ব্যক্তিগত শাসন কায়েম করেন। সাধারণ মানুষের কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। ২. কৃষক ও শ্রমিকের দুরবস্থা:  অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ছিল এবং উচ্চ হারে খাজনা দিতে বাধ্য হতো। অন্যদিকে, কলকারখানার শ্রমিকদের মজুরি ছিল অতি নগণ্য, কাজের সময় ছিল ১২-১৫ ঘণ্টা এবং আবাসন ছিল নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ৩. অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা:  দেশের মোট জমির সিংহভাগ ছিল অভিজাত (Aristocrats) ও পুরোহিতদের হাতে। জার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কোনো আগ্রহ দেখা...

পিটার দ্য গ্রেট: আধুনিক রাশিয়ার জনক – ক্লাস ৯ ইতিহাস নোট

কাকে, কেন ‘আধুনিক রাশিয়ার জনক’ বলা হয়? সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে জার পিটার দ্য গ্রেট মহান পিটার (Peter the Great) বা প্রথম পিটার -কে ‘ আধুনিক রাশিয়ার জনক ’ বলা হয়। ১৬৮২ থেকে ১৭২৫ সাল পর্যন্ত শাসনকারী এই জার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে রাশিয়াকে একটি মধ্যযুগীয়, পশ্চাৎপদ রাষ্ট্র থেকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। প্রথম পিটারকে কেন 'আধুনিক রাশিয়ার জনক' বলা হয়: ১. পশ্চিমীকরণ (Westernization) ও আধুনিকায়ন: পিটার পশ্চিম ইউরোপের প্রযুক্তি, প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সামাজিক রীতিনীতি রাশিয়ায় প্রবর্তন করেন। তিনি সম্ভ্রান্তদের দাড়ি কামানো ও পশ্চিমা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করেন, যা ছিল বাহ্যিক আধুনিকতার প্রতীক । ২. নতুন রাজধানী স্থাপন:  তিনি বাল্টিক সাগরের তীরে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর নির্মাণ করে রাজধানী সরিয়ে আনেন, যেটি হয়ে ওঠে ‘ ইউরোপের দিকে রাশিয়ার জানালা ’। এটি বাণিজ্য, নৌ-শক্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র হয়। ৩. সামরিক ও নৌ-সংস্কার:   তিনি আধুনিক ইউরোপীয় কায়দায় সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং প্রায় ছিল না এম...

‘বলকান সমস্যা’ বা ‘নিকট প্রাচ্য সমস্যা’ কী? এই সমস্যার মূল কারণ ও প্রভাব

বলকান সমস্যা ও নিকট প্রাচ্য সংকট: কারণ ও প্রভাব বলকান সমস্যা ও নিকট প্রাচ্য সংকটের কারণ ও প্রভাব’ সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ পোস্ট। ইউরোপের ইতিহাসে ‘ বলকান সমস্যা ’ ও ‘ নিকট প্রাচ্য সমস্যা ’ মূলত একই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দুটি পৃথক নাম। এই দুটো বিষয়কে একত্রে ‘ পূর্বাঞ্চলীয় সমস্যা ’ (Eastern Question) নামেও অভিহিত করা হয়। ‘ বলকান সমস্যা ’ বা ‘ নিকট প্রাচ্য  সমস্যা ’ : বলকান সমস্যার মূল কারণ ছিল অটোম্যান (তুর্কি) সাম্রাজ্যের  অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা। অটোম্যান সাম্রাজ্যের এই দুর্বলতা ও তার পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, তাকে কেন্দ্র করে বলকান অঞ্চলে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ই ‘ বলকান সমস্যা ’ বা ‘ নিকট প্রাচ্য সমস্যা ’ নামে পরিচিত। [ উল্লেখ্য, ‘নিকট প্রাচ্য’ শব্দটি দ্বারা উনিশ শতকে ইউরোপের সবচেয়ে নিকটবর্তী ‘প্রাচ্য’কে বোঝানো হতো, যার মধ্যে বলকান, আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) ও মিশর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ] 📌 সমস্যাটির প্রধান কারণসমূহ : অটোমান শাসনের অবক্ষয় :  ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ খ্যাত অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো (রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ...

ইয়ং ইতালির মূল আদর্শ কী ছিল?

ইয়ং ইতালির মূল আদর্শ কী ছিল? চিত্র: জোসেফ মাৎসিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ইয়ং ইতালি’ সংগঠনের আদর্শ (নবম শ্রেণির ইতিহাস)। ‘ ইয়ং ইতালি ’ (Young Italy)-র মূল আদর্শ ছিল একটি স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ ও প্রজাতান্ত্রিক ইতালি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। জোসেফ (জুসেপ্পে) মাৎসিনি ১৮৩১ সালে এই গোপন বিপ্লবী সংগঠনটি গড়ে তোলেন। ইয়ং ইতালির প্রধান ভিত্তি ছিল  তিনটি মূল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত : · জাতীয় ঐক্য – ইতালির বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলকে একত্রিত করে একক জাতিরাষ্ট্র গঠন। · প্রজাতন্ত্রবাদ – রাজতন্ত্র ও পোপের পার্থিব শাসন উচ্ছেদ করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কায়েম। · বিপ্লবী জাতীয়তাবাদ – বিদেশি অস্ট্রীয় আধিপত্য দূর করতে শিক্ষা, প্রচার ও প্রয়োজনে সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণকে জাগ্রত করা। মাৎসিনির ভাষায় ইয়ং ইতালির লক্ষ্য ছিল “ স্বাধীনতা , সমতা ও ভ্রাতৃত্ব ”-ভিত্তিক এক ইতালি, যেখানে জনগণই হবে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। ----------xx---------- ইয়ং ইতালি সংক্রান্ত বিকল্প প্রশ্ন : ইয়ং ইতালির মূলনীতি কী ছিল? নব্য ইতালির মূলনীতি ও আদর্শ উল্লেখ করো। ইয়ং ইতালির লক্ষ্য সম্পর্কে মাৎসিনির বক্তব্য কী ছিল? মাৎসিনি কী ...

📘 নবম শ্রেণি 📘 : 👩 যে অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর চাও তাতে ক্লিক করো

------------------------------------------------------------------------

OUR BOOKS FOR WBBSE & WBCHSE

OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)

------------------------------------------------------------------------

নবম শ্রেণির জনপ্রিয় প্রশ্নগুলো পড়ো :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

 ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল Causes and consequences of the Crimean War ক্রিমিয়ার যুদ্ধ : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে রাশিয়া তুরস্ক দখল করার চেষ্টা করলে, বলকান অঞ্চলে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয় যা, বলকান সমস্যা নামে পরিচিত। মূলত এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৮৫৩ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালির পিডমন্ট-সার্ডেনিয়া সহ কিছু দেশ তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ কে দু ভাগে ভাগ করা যায়।  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ কারণ : রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধি : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণে বলকান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে রাশিয়া ১৮৩০ সালে তুরস্কের কাছ থেকে বসফরাস ও দার্দানেলস প্রণালীতে রুশ জাহাজ চলাচলের অধিকার আদায় করে। রাশিয়ার এই শক্তি বৃদ্ধিতে ইংল্যান্ড ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তুরস্ক দখলের পরিকল্পনা : ১৮৫৩ সালে রাশিয়া ইংল্যান্ড এর কাছে তুরস্ককে ব্যবচ্ছে...

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের পিছনে দার্শনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরো প্রমূখ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবে মন্তেস্কুর অবদান : ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দা স্পিরিট অফ লজ’ । এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি রাজার ‘স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্ব’ নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ‘দ্য পারসিয়ান লেটারস’ -এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে পৃথক করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য ধনবন্টন ও ভোটাধিকারের দাবি করেন। ফরাসি বিপ্লবে ভলতেয়ারের অবদান : ভলতেয়ার ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কাঁদিদ’ -এর মাধ্যমে ফরাসি গির্জার দুর্নীতি কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অনাচারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোল...

ফরাসি বিপ্লবের কারণ

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের জন্য রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারন গুলি আলোচনা কর।  অথবা, ফরাসি বিপ্লবের কারনগুলি আলোচনা কর। ফরাসি বিপ্লব ঃ ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের ইতিহাসে নয়, গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।এই বিপ্লব হওয়ার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা অভাব অভিযোগ। ঐতিহাসিক লেফেভরের-এর মতে ফরাসি বিপ্লবের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে তার অতীত ইতিহাসের মধ্যে। ফরাসি বিপ্লবের কারন ‌ফরাসি বিপ্লবের পিছনে প্রকৃতপক্ষে তিনটি কারণ দায়ী ছিল-  ‌১) রাজনৈতিক কারন ২) সামাজিক কারণ ৩) অর্থনৈতিক কারণ ফরাসি বিপ্লবের  রাজনৈতিক কারন ফরাসি বিপ্লব ছিল প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বুঁরবো রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।রাজারা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা বংশানুক্রমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। রাজাদের দুইরকম ভাবে শাসনকার্য চালাত-- ক) রাজাদের দুর্বল শাসন : ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই(১৬৪৩-১৭১৫ খ্রীঃ) বিলাস ব্যসনে মগ্ন থেকে স্বৈরাচারী ক্ষমতার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।তিনি বলতেন “আমিই রাট্র”। পরবর্তী রাজা...

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল কেন?

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের কারণ ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায়। ১) কৃষি বিপ্লব : নবজাগরণের ফলে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়। নতুন ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। এই কৃষি বিপ্লব শিল্পবিপ্লবকে কাঁচামাল দিয়ে সাহায্য করেছিল। ২) সুলভ শ্রমিক : ষোড়শ শতক থেকে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বর্ধিত জনসংখ্যা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুলভ শ্রমিকের যোগান দিয়েছিল। ৩) মূলধনের প্রাচুর্য : ১৭ শতক থেকে ইংল্যান্ড বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। এই মুনাফা শিল্পের প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিয়েছিল। ৪) বাজার : ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বে জয়লাভের ফলের শিল্প পণ্যের বাজার পেতে সুবিধে হয়েছিল। ৫) খনিজ : শিল্পের প্রয়োজনীয় খনিজসম্পদ যেমন লোহা ও কয়লা ইংল্যান্ডে প্রচুর পাওয়া যেত। ৬) উন্নত পরিবহন : নবজাগরণ ও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এই পরিবহন ব্যবস্থা শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করেছিল। এই সমস্ত অনুকূল পরিবেশ ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে সাহায্য করেছি...

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা আলোচনা করো  উ. ভূমিকা: ফরাসী বিপ্লবের আগে প্রায় তিন শতাব্দির বেশি সময় ইতালি পরস্পর বিরোধী বিভিন্ন ছোটবড় রাজ্যে বিভক্ত ছিল. এখানকার অধিকাংশ রাজ্যে বিদেশীদের আধিপত্য ছিল। ইটালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির অবদান : ইটালির ঐক্য আন্দোলনে যে তিনজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ অসামান্য অবদানের সাক্ষর রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীর দেশপ্রেমিক গ্যারিবল্ডি (১৮০৭-১৮৮২ খ্রি) । ১. আন্দোলনে যোগদান ও দেশত্যাগ: গ্যারিবল্ডি ১৮৩৩ সালে ম্যাটসিনির সংস্পর্শে এসে ইয়ং ইটালি দলের সদস্য হন। তিনি ম্যাৎসিনি নেতৃত্বে স্যাভয়-এর বিদ্রোহে যোগ দিলে তার প্রাণদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। ২. ১৮৪৮ এর বিপ্লব : ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিতে বিপ্লব শুরু হলে, গ্যারিবোল্ডি ইতালিতে ফিরে আসেন এবং রোমে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ম্যাৎসিনি অন্যতম সহকারী হিসাবে কাজ করেন। ৩. সিসিলি ও নেপলস জয় : গ্যারিবোল্ডি ‘লাল কোর্তা’ নামে সেনাদল গঠন করে দক্ষিন ইটালির সিসিলি ও নেপলস অভিযান করেন। সেখানকার বুরব রাজবংশকে পরাস্ত করে তিনি সিসিলি ও নেপলস (১৮৬০ খ্রি:) করেন। ৪. প্রজাতন...

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতিগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি ১৮১৫ সালে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ ইউরোপের পুনর্গঠন এর উদ্দেশ্যে যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি নামে পরিচিত। এই নীতি গুলি ছিল ১) ন্যায্য অধিকার নীতি ২) ক্ষতিপূরণ নীতি এবং ৩) শক্তিসাম্য নীতি। ভিয়েনা সম্মেলনের মূল নীতিগুলি হল, ১ ) ন্যায্য অধিকার নীতি :  এই নীতির মূল কথা হলো ইউরোপে বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজবংশ গুলিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এই নীতির ফলে ফ্রান্সে বুুুরবোঁ বংশ হল্যান্ডে  অরেঞ্জ বংশ , তা নিয়ায় ভিদ্মতে  সাতবাহন বংশ এবং  মধ্য ইতালীতে  পোপ  ক্ষমতা লাভ করে। ২) ক্ষতিপূরণ নীতি :   এই নীতির মূল কথা হলো ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই নীতি প্রয়োগ করে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরের নেপোলিয়ন অধিকৃত ভূখণ্ড গুলি ভাগাভাগিি করে। ৩) শক্তিসাম্য নীতি :  ভবিষ্যতে ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি নষ্ট না করতে তা নিশ্চিত করা এই নীতির মূল লক...

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় - কারণ ব্যাখ্যা কর। নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন? নেপোলিয়ান এক অতি সাধারন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফ্রান্সের সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের উন্মেষ ঘটেছিল, তার সৌজন্যেই। আর একারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবের সন্তান। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতার আদর্শকে তিনি আজীবন সম্মান দেখাননি। নেপনিয়নকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলার কারণ : তাঁর এই বিপ্লবের সন্তান হয়ে ওঠার পিছনে আরও যেসব সমস্ত বিষয় গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা নিয়েছিল তা হল : ১) বিপ্লবী আদর্শের বাস্তবায়ন : ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের সংবিধান সভা সে-দেশ থেকে সামন্ত প্রথা, ভূমিদাস প্রথা, করভি বা বেগর শ্রম, টাইট বা ধর্মকর ইত্যাদি বিলোপ ঘটিয়েছিল। নেপোলিয়ান ক্ষমতায় আসার পর বিপ্লবী সরকারের এইসব নিয়মকে সচেতন ভাবেই বহাল রেখেছিলেন। ২) বিপ্লবী আদর্শের প্রসার : শুধু বহাল রাখাই নয়, বিপ্লবের মূল মন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩) পুরাতন তন্ত্রের ধ্বংস সাধন : ফ্রান্সের ...

কোড নেপোলিয়ন কী?

কোড নেপোলিয়ন বলতে কী বোঝো? কোড নেপোলিয়ন-এর মাধ্যমে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কীভাবে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করেন? কোড নেপোলিয়ন কী ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সংস্কার কর্মসূচিগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হল ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoleon) বা আইনবিধি প্রবর্তন। তার শাসনকালের পূর্বে ফ্রান্সের নানা স্থানে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক ও পরস্পরবিরোধী আইন প্রচলিত ছিল। নেপোলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সে একই ধরনের আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে ৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আইনবিধি সংকলিত হয়, তা ‘কোড নেপোলিয়ন’  নামে খ্যাত। কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য ঃ ২২৮৭টি বিধি সংবলিত এই আইন সংহিতা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল— দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক আইন। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এই আইন সংহিতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।  নেপোলিয়ন বিপ্লবের আদর্শ, প্রাকৃতিক আইন ও রোমান আইনের সমন্বয় সাধন করে কোড নেপোলিয়ন রচনা করেছিলেন। প্রথমত: এই আইনের ফল...

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক 'বাস্তিল দুর্গ' ধ্বংসের গুরুত্ব কী ছিল? ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করে প্যারিসও ভার্সাই-এ সেনা মোতায়েন করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই উত্তেজিত জনতা প্যারিসের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ দখল এবং ধ্বংস করে। বাস্তিল দুর্গের পতন ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব : প্রথমত, বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক। এই বিশাল দুর্গে রাজা ও রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাজা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। দার্শনিক ভলতেয়ারও রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার জন্য বাস্তিল দুর্গে বন্দি ছিলেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে ফরাসি রাজতন্ত্রের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতার দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ফরাসিরাজতন্ত্রের গর্বের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ ধ্বংসের ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে অনেকগুলি ধাপ অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, বাস্তিল দুর্গের পতন প্রমাণ করেছিল যে রাজ...

মেটারনিক তন্ত্র কী?

  মেটারনিক তন্ত্র কী? What is Metternich System? ফরাসি বিপ্লবের ফলে ইউরোপে উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদ সহ নানান আধুনিক ভাবধারা ছড়িয়ে পড়ে। নেপোলিয়নের পতনের পর অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয় রক্ষণশীলতার জনক মেটারনিক ইউরোপকে ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব থেকে মুক্ত করে পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে তীব্র দমনমূলক ও রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং সমগ্র ইউরোপে তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তা ‘ মেটারনিক তন্ত্র ’ বা ‘ মেটারনিক ব্যবস্থা ’ বা  ‘ মেটারনিক পদ্ধতি ’  নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থার ফলে ইউরোপ প্রায় ত্রিশ বছরের (১৮১৫ - ১৮৪৮) জন্য যুদ্ধজনিত অশান্তি ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত ছিল। এটাই মেটারনিক তন্ত্রের উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব। আর এই কারণে এই সময়কালকে ঐতিহাসিক ফিশার ‘ মেটারনিক যুগ’ নাম অভিহিত করেছেন।  ---------xx------- বিকল্প প্রশ্ন : ১) ‘মেটারনিক ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝ? ২) কোন সময়কে কেন ‘মেটারনিক যুগ’ বলা হয়। ৩) ‘মেটারনিক পদ্ধতি’ কী?