} --> সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

 ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর।
Causes and consequences of the Crimean War, ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল
ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

Causes and consequences of the Crimean War

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ :

অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে রাশিয়া তুরস্ক দখল করার চেষ্টা করলে, বলকান অঞ্চলে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয় যা, বলকান সমস্যা নামে পরিচিত। মূলত এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৮৫৩ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালির পিডমন্ট-সার্ডেনিয়া সহ কিছু দেশ তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ কে দু ভাগে ভাগ করা যায়।  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ কারণ :

  1. রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধি : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণে বলকান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে রাশিয়া ১৮৩০ সালে তুরস্কের কাছ থেকে বসফরাস ও দার্দানেলস প্রণালীতে রুশ জাহাজ চলাচলের অধিকার আদায় করে। রাশিয়ার এই শক্তি বৃদ্ধিতে ইংল্যান্ড ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
  2. তুরস্ক দখলের পরিকল্পনা : ১৮৫৩ সালে রাশিয়া ইংল্যান্ড এর কাছে তুরস্ককে ব্যবচ্ছেদ করে দুই পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রস্তাব পাঠায়। রাশিয়ার এই পরিকল্পনা ইংল্যান্ড ভালো চোখে নেয়নি।
  3. রাশিয়ার তুরস্ক আক্রমণ : এই পরিস্থিতিতে ১৮৫৩ সালে রাশিয়া দানিয়ুব নদীর তীরবর্তী দুটি তুর্কি প্রদেশ দখল করে নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। 
  4. ফ্রান্সের যুদ্ধাকাঙ্খা : ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে পূর্বের মস্কো অভিযানের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে এবং ফ্রান্সের গরিমা বৃদ্ধি করতে চাইছিলেন। এই উদ্দেশ্যে ফ্রান্স তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। 
  5. ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক স্বার্থ : বলকান অঞ্চলে ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক তথা উপনিবেশিক স্বার্থেকে ক্ষুন্ন করবে এই ভাবনায় রাশিয়ার এই আক্রমণরাশিয়ার এই আগ্রাসনকে ইংল্যান্ড ভালো চোখে দেখেনি।
  6. অস্ট্রিয়ার উদ্দেশ্য : অস্ট্রিয়া মনে করতো যে,  বলকান অঞ্চলে রাশিয়ার আধিপত্য বাড়লে তার স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এই হিসাব মাথায় রেখে অস্ট্রিয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে সমর্থন জানালে পরিস্থিতি আরো সংকট জনক হয়ে পড়ে।
  7. ইতালির ঐক্যের বাসনা : ইতালির ঐক্য আন্দোলনে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সহযোগিতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে পিডমন্ট ও সার্টেনিয়া ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সঙ্গে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ :

১৮৩৩ সালে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে আংকিয়ার স্কেলেসির সন্ধি হয়। এই সন্ধির সূত্র ধরে ১৮৫৩ সালে রাশিয়া তুরস্কের অন্তর্গত গ্রীক গির্জা এবং সেখানকার অধিবাসীদের উপর আধিপত্য স্থাপনের দাবি করলে ১৮৫৩ সালের অক্টোবর মাসে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালির সার্ডিনিয়া-পিডমন্ড, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্পেন ও রোমান ক্যাথলিক শক্তিবর্গ তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে ১৮৫৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিমিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের ফলাফল

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের ফলাফলকে দুভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি।  যথা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল।

 ক্রিমিয়ার যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফলাফল :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ফলাফলগুলো হল :
  1. বিপুল প্রাণ ও সম্পদহানি : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের ফলে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় এবং কিছুদিনের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়
  2. রাশিয়ার আগ্রাসন রুদ্ধ : বসফরাস ও দার্দেনেলিস প্রণালী, কৃষ্ণ সাগর ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে যায়।
  3. তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষা : তুরস্ক রাশিয়ার কাছে হারানো অঞ্চলগুলো পুনরায় ফিরে পায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাদের কাছ থেকে তুরস্কের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পায়।
  4. ফ্রান্সের মর্যাদা পুনরুদ্ধার : তৃতীয় নেপোলিয়ন এই যুদ্ধে যুক্ত হয়ে রাশিয়াকে পরাজিত করার ফলে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে।

প্রিমিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ ( সুদূর প্রসারী ) ফলাফল :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ফলাফলগুলো হল :
  1. জারতন্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ : ক্রিমিয়ার যুদ্ধে  রাশিয়ার পরাজয় যার তন্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসে পড়ে।ফলে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে গন আন্দোলন দানা বাঁধে যা হাজার ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের  পটভূমি তৈরি করে।
  2. রাশিয়ায় ভূমিদাস প্রথার বিলোপ : গণআন্দোলনের চাপে পড়ে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার উদারনৈতিক সংস্কার চালু করেন এবং ভূমিদাস প্রথা বিলোপ করতে বাধ্য হন।
  3. ইতালি ঐক্য : ইতালীর পিডমন্ট সার্ডেনিয়া এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় বিজয়ী জোটের সমর্থনে ইতালির ঐক্য সহজ হয়ে যায়।
  4. জার্মানির ঐক্য : এই যুদ্ধে অস্ট্রিয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে যাওয়ায় পরবর্তীকালে অস্ত্রপ্রকাশীয় যুদ্ধের সময় রাশিয়া-অস্ট্রিয়ার পাশে দাঁড়ায়নি। ফলে রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্যের পথ প্রস্তুত হয়।
  5. বলকান জাতীয়তাবাদের উদ্ভব : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন জাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে এবং জাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের দাবিতে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে।
  6. মধ্য এশিয়ায় রুশ ভীতি : এই যুদ্ধে পরাজয়ের পর রাশিয়া মধ্য এশিয়ায় সাম্রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে। ফলে মধ্য এশিয়ায়, বিশেষ করে আফগান সীমান্তে, রুশ ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
  7. মেটারনিক তন্ত্রের অবসান : বলকান জাতীয়তাবাদের উদ্ভবের প্রভাবে ইউরোপ থেকে মেটারনিক তন্ত্রের প্রভাব পুরোপুরি মুছে যায়।
  8. ব্রিটেনের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ :  এই যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক ও সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ থাকলেওমধ্য এশিয়ায় রুশভীতির কারণেব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য সংকটে পড়ে।

উপসংহার :

 ঐতিহাসিক রবার্ট মরিয়া বলেছেন, আধুনিককালের সবচেয়ে অনাবশ্যক ও অযৌক্তিক যুদ্ধ হলো প্রিমিয়ার যুদ্ধ। তবে, উপরোক্ত ফলাফলের নিরিখে এই যুদ্ধ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক লর্ড ক্রোমার এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রিমিয়ার যুদ্ধকে ইউরোপের ইতিহাসের জলবিভাজিকা বলে অভিহিত করেছেন।
-------------------xx---------------

বিকল্প প্রশ্ন সমূহ :

  1. ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পটভূমি আলোচনা করো। ইউরোপের ইতিহাসে এই যুদ্ধের গুরুত্ব কি ছিল?
  2. ক্রিমিয়ার যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ সংক্ষেপে লেখো। এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল বর্ণনা করো। 

মন্তব্যসমূহ

📘 নবম শ্রেণি 📘 : 👩 যে অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর চাও তাতে ক্লিক করো

------------------------------------------------------------------------

OUR BOOKS FOR WBBSE & WBCHSE

OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)

------------------------------------------------------------------------

নবম শ্রেণির জনপ্রিয় প্রশ্নগুলো পড়ো :

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের পিছনে দার্শনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরো প্রমূখ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবে মন্তেস্কুর অবদান : ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দা স্পিরিট অফ লজ’ । এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি রাজার ‘স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্ব’ নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ‘দ্য পারসিয়ান লেটারস’ -এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে পৃথক করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য ধনবন্টন ও ভোটাধিকারের দাবি করেন। ফরাসি বিপ্লবে ভলতেয়ারের অবদান : ভলতেয়ার ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কাঁদিদ’ -এর মাধ্যমে ফরাসি গির্জার দুর্নীতি কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অনাচারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোল...

ফরাসি বিপ্লবের কারণ

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের জন্য রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারন গুলি আলোচনা কর।  অথবা, ফরাসি বিপ্লবের কারনগুলি আলোচনা কর। ফরাসি বিপ্লব ঃ ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের ইতিহাসে নয়, গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।এই বিপ্লব হওয়ার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা অভাব অভিযোগ। ঐতিহাসিক লেফেভরের-এর মতে ফরাসি বিপ্লবের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে তার অতীত ইতিহাসের মধ্যে। ফরাসি বিপ্লবের কারন ‌ফরাসি বিপ্লবের পিছনে প্রকৃতপক্ষে তিনটি কারণ দায়ী ছিল-  ‌১) রাজনৈতিক কারন ২) সামাজিক কারণ ৩) অর্থনৈতিক কারণ ফরাসি বিপ্লবের  রাজনৈতিক কারন ফরাসি বিপ্লব ছিল প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বুঁরবো রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।রাজারা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা বংশানুক্রমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। রাজাদের দুইরকম ভাবে শাসনকার্য চালাত-- ক) রাজাদের দুর্বল শাসন : ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই(১৬৪৩-১৭১৫ খ্রীঃ) বিলাস ব্যসনে মগ্ন থেকে স্বৈরাচারী ক্ষমতার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।তিনি বলতেন “আমিই রাট্র”। পরবর্তী রাজা...

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল কেন?

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের কারণ ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায়। ১) কৃষি বিপ্লব : নবজাগরণের ফলে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়। নতুন ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। এই কৃষি বিপ্লব শিল্পবিপ্লবকে কাঁচামাল দিয়ে সাহায্য করেছিল। ২) সুলভ শ্রমিক : ষোড়শ শতক থেকে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বর্ধিত জনসংখ্যা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুলভ শ্রমিকের যোগান দিয়েছিল। ৩) মূলধনের প্রাচুর্য : ১৭ শতক থেকে ইংল্যান্ড বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। এই মুনাফা শিল্পের প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিয়েছিল। ৪) বাজার : ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বে জয়লাভের ফলের শিল্প পণ্যের বাজার পেতে সুবিধে হয়েছিল। ৫) খনিজ : শিল্পের প্রয়োজনীয় খনিজসম্পদ যেমন লোহা ও কয়লা ইংল্যান্ডে প্রচুর পাওয়া যেত। ৬) উন্নত পরিবহন : নবজাগরণ ও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এই পরিবহন ব্যবস্থা শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করেছিল। এই সমস্ত অনুকূল পরিবেশ ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে সাহায্য করেছি...

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় - কারণ ব্যাখ্যা কর। নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন? নেপোলিয়ান এক অতি সাধারন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফ্রান্সের সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের উন্মেষ ঘটেছিল, তার সৌজন্যেই। আর একারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবের সন্তান। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতার আদর্শকে তিনি আজীবন সম্মান দেখাননি। নেপনিয়নকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলার কারণ : তাঁর এই বিপ্লবের সন্তান হয়ে ওঠার পিছনে আরও যেসব সমস্ত বিষয় গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা নিয়েছিল তা হল : ১) বিপ্লবী আদর্শের বাস্তবায়ন : ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের সংবিধান সভা সে-দেশ থেকে সামন্ত প্রথা, ভূমিদাস প্রথা, করভি বা বেগর শ্রম, টাইট বা ধর্মকর ইত্যাদি বিলোপ ঘটিয়েছিল। নেপোলিয়ান ক্ষমতায় আসার পর বিপ্লবী সরকারের এইসব নিয়মকে সচেতন ভাবেই বহাল রেখেছিলেন। ২) বিপ্লবী আদর্শের প্রসার : শুধু বহাল রাখাই নয়, বিপ্লবের মূল মন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩) পুরাতন তন্ত্রের ধ্বংস সাধন : ফ্রান্সের ...

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা আলোচনা করো  উ. ভূমিকা: ফরাসী বিপ্লবের আগে প্রায় তিন শতাব্দির বেশি সময় ইতালি পরস্পর বিরোধী বিভিন্ন ছোটবড় রাজ্যে বিভক্ত ছিল. এখানকার অধিকাংশ রাজ্যে বিদেশীদের আধিপত্য ছিল। ইটালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির অবদান : ইটালির ঐক্য আন্দোলনে যে তিনজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ অসামান্য অবদানের সাক্ষর রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীর দেশপ্রেমিক গ্যারিবল্ডি (১৮০৭-১৮৮২ খ্রি) । ১. আন্দোলনে যোগদান ও দেশত্যাগ: গ্যারিবল্ডি ১৮৩৩ সালে ম্যাটসিনির সংস্পর্শে এসে ইয়ং ইটালি দলের সদস্য হন। তিনি ম্যাৎসিনি নেতৃত্বে স্যাভয়-এর বিদ্রোহে যোগ দিলে তার প্রাণদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। ২. ১৮৪৮ এর বিপ্লব : ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিতে বিপ্লব শুরু হলে, গ্যারিবোল্ডি ইতালিতে ফিরে আসেন এবং রোমে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ম্যাৎসিনি অন্যতম সহকারী হিসাবে কাজ করেন। ৩. সিসিলি ও নেপলস জয় : গ্যারিবোল্ডি ‘লাল কোর্তা’ নামে সেনাদল গঠন করে দক্ষিন ইটালির সিসিলি ও নেপলস অভিযান করেন। সেখানকার বুরব রাজবংশকে পরাস্ত করে তিনি সিসিলি ও নেপলস (১৮৬০ খ্রি:) করেন। ৪. প্রজাতন...

কোড নেপোলিয়ন কী?

কোড নেপোলিয়ন বলতে কী বোঝো? কোড নেপোলিয়ন-এর মাধ্যমে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কীভাবে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করেন? কোড নেপোলিয়ন কী ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সংস্কার কর্মসূচিগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হল ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoleon) বা আইনবিধি প্রবর্তন। তার শাসনকালের পূর্বে ফ্রান্সের নানা স্থানে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক ও পরস্পরবিরোধী আইন প্রচলিত ছিল। নেপোলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সে একই ধরনের আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে ৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আইনবিধি সংকলিত হয়, তা ‘কোড নেপোলিয়ন’  নামে খ্যাত। কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য ঃ ২২৮৭টি বিধি সংবলিত এই আইন সংহিতা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল— দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক আইন। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এই আইন সংহিতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।  নেপোলিয়ন বিপ্লবের আদর্শ, প্রাকৃতিক আইন ও রোমান আইনের সমন্বয় সাধন করে কোড নেপোলিয়ন রচনা করেছিলেন। প্রথমত: এই আইনের ফল...

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতিগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি ১৮১৫ সালে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ ইউরোপের পুনর্গঠন এর উদ্দেশ্যে যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি নামে পরিচিত। এই নীতি গুলি ছিল ১) ন্যায্য অধিকার নীতি ২) ক্ষতিপূরণ নীতি এবং ৩) শক্তিসাম্য নীতি। ভিয়েনা সম্মেলনের মূল নীতিগুলি হল, ১ ) ন্যায্য অধিকার নীতি :  এই নীতির মূল কথা হলো ইউরোপে বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজবংশ গুলিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এই নীতির ফলে ফ্রান্সে বুুুরবোঁ বংশ হল্যান্ডে  অরেঞ্জ বংশ , তা নিয়ায় ভিদ্মতে  সাতবাহন বংশ এবং  মধ্য ইতালীতে  পোপ  ক্ষমতা লাভ করে। ২) ক্ষতিপূরণ নীতি :   এই নীতির মূল কথা হলো ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই নীতি প্রয়োগ করে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরের নেপোলিয়ন অধিকৃত ভূখণ্ড গুলি ভাগাভাগিি করে। ৩) শক্তিসাম্য নীতি :  ভবিষ্যতে ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি নষ্ট না করতে তা নিশ্চিত করা এই নীতির মূল লক...

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক 'বাস্তিল দুর্গ' ধ্বংসের গুরুত্ব কী ছিল? ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করে প্যারিসও ভার্সাই-এ সেনা মোতায়েন করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই উত্তেজিত জনতা প্যারিসের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ দখল এবং ধ্বংস করে। বাস্তিল দুর্গের পতন ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব : প্রথমত, বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক। এই বিশাল দুর্গে রাজা ও রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাজা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। দার্শনিক ভলতেয়ারও রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার জন্য বাস্তিল দুর্গে বন্দি ছিলেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে ফরাসি রাজতন্ত্রের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতার দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ফরাসিরাজতন্ত্রের গর্বের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ ধ্বংসের ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে অনেকগুলি ধাপ অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, বাস্তিল দুর্গের পতন প্রমাণ করেছিল যে রাজ...

ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অবদান লেখো ফরাসি সমাজ ও পরিবারে পুরুষের মত নারীর সমান অধিকার ছিল না। তা সত্বেও তারা ফরাসি বিপ্লবে নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিপ্লবের শুরু থেকেই তারা পুরুষ বিপ্লবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ফরাসি বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা : ১) গ্রাম অঞ্চলে ফ্রান্সের রাজাদের অত্যাচার ছিলো খুব বেশি। আর বেশির ভাগ গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর মানুষের বসবাস করতো। তাই খুব সহজেই গ্রামের নারী সমাজ এই অত্যাচারের প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছিল। ২) ১৭৮৯ সালের শেষের দিকে ফ্রান্সের গ্রাম অঞ্চলে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে গ্রামের নারীরা প্রতিবাদে নেমে পড়ে, সম্রাটের বিরুদ্ধে। ৩) খাদ্যের অভাবের সময়ে প্রায় ১০০০০ মহিলা রাজ প্রাসাদ অভিযান করে, ও রুটি চাই স্লোগান দিতে থাকে। এক সময় রাজপ্রাসাদ ঘিরে রক্ষীদের হত্যা ও বন্ধি করে ফেলে। ৪) ১৭৯২ সালে টুইলারিস প্রাসাদ অবরোধের সময় (১০ই আগস্ট) এবং জাতীয় সম্মেলনে (২১ সেপ্টেম্বর ) রাজতন্ত্রের উচ্ছেদের পক্ষে নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ৫) ১৭৯৩ সালে নারীসমাজের অধিকার ও প্রজাতন্ত্রের পক্ষে 'বিপ্লবী প্র...