সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি লেখো?
![]() |
| লিগ অব নেশনস থেকে সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন পর্যন্ত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথ। |
ভূমিকা
নিচে এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসংঘ (United Nations - UN) প্রতিষ্ঠার পটভূমি এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানবজাতিকে একটি বৈশ্বিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করায়।
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং 'লিজ অফ নেশনস' (League of Nations)
[i] ভয়াবহতা ও উপলব্ধি: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা সমগ্র পৃথিবীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি 'লিগ অব নেশনস' গঠিত হয়।[ii] ব্যর্থতা: কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলির আগ্রাসী নীতি রোধ করার অক্ষমতার কারণে এটি বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে।
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও নতুন উদ্যোগ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং পারমাণবিক বোমার ব্যবহার বিশ্বনেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, বিশ্বকে রক্ষা করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজন।৩. আটলান্টিক সনদ (Atlantic Charter, 1941)
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৪১ সালের আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল 'আটলান্টিক সনদ' জারি করেন।এই সনদে বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার মূল ভিত্তিগুলি স্থাপিত হয়।
৪. বিভিন্ন ঘোষণা ও সম্মেলন
[i] ওয়াশিংটন ঘোষণা (১৯৪২): ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধোত্তর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন এবং এখানেই প্রথম 'United Nations' নামটি ব্যবহৃত হয়।[ii] মস্কো ও তেহরান সম্মেলন (১৯৪৩): এই সম্মেলনগুলিতে মিত্রশক্তি বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে সমর্থন করে।
[iii] ডামবার্টন ওকস সম্মেলন (১৯৪৪): আমেরিকার এই সম্মেলনে পরাশক্তিগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে নতুন সংস্থার খসড়া গঠনতন্ত্র বা নিয়মাবলী তৈরি করেন।
৫. ইয়াল্টা সম্মেলন (Yalta Conference, 1945)
১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা শহরে মিলিত হয়ে সংস্থার ভেটো ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি চূড়ান্ত করেন।৬. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন ও জাতিপুঞ্জের জন্ম (১৯৪৫)
[i] সম্মেলন: ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে 'জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক অঙ্গসংগঠন সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়।[ii] সনদ স্বাক্ষর: দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের স্বাক্ষরের মাধ্যমে 'জাতিসংঘের সনদ' অনুমোদিত হয়।
[iii] আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ: অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রতি বছর 'জাতিসংঘ দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
উপসংহার :
সংক্ষেপে: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যর্থতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার ঐকান্তিক তাগিদেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সম্মিলিতভাবে এই বিশ্ব সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উত্তর শেষ
প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :
- সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কী? কেন এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়?
- রাষ্ট্রসঙ্ঘ কী? এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার কারণ কী ছিল?
- ঠিক কোন কোন পরিস্থিতিতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গড়ে উঠেছিল?
- ইউনাইটেড নেশন্স অর্গানাইজেশন গড়ে উঠেছিল কেন?
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউএনও (UNO) গড়ে তোলার প্রয়োজন হল কেন?
- UNO এর পুরো নাম কী? কোন ঘটনা পরম্পরায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল?
সপ্তম অধ্যায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন