সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি লেখো?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রধান ঐতিহাসিক ধাপ এবং ঘটনাগুলোর টাইমলাইন সম্বলিত একটি তথ্যমূলক চিত্র | An informative infographic timeline showing the key historical events leading to the formation of the United Nations.
লিগ অব নেশনস থেকে সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন পর্যন্ত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথ।
ভূমিকা

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসংঘ (United Nations - UN) প্রতিষ্ঠার পটভূমি এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানবজাতিকে একটি বৈশ্বিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করায়।

নিচে এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং 'লিজ অফ নেশনস' (League of Nations)

[i] ভয়াবহতা ও উপলব্ধি: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা সমগ্র পৃথিবীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি 'লিগ অব নেশনস' গঠিত হয়।

[ii] ব্যর্থতা: কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলির আগ্রাসী নীতি রোধ করার অক্ষমতার কারণে এটি বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে।

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও নতুন উদ্যোগ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং পারমাণবিক বোমার ব্যবহার বিশ্বনেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, বিশ্বকে রক্ষা করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজন।

৩. আটলান্টিক সনদ (Atlantic Charter, 1941)

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৪১ সালের আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল 'আটলান্টিক সনদ' জারি করেন।

এই সনদে বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার মূল ভিত্তিগুলি স্থাপিত হয়।

৪. বিভিন্ন ঘোষণা ও সম্মেলন

[i] ওয়াশিংটন ঘোষণা (১৯৪২): ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধোত্তর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন এবং এখানেই প্রথম 'United Nations' নামটি ব্যবহৃত হয়।
[ii] মস্কো ও তেহরান সম্মেলন (১৯৪৩): এই সম্মেলনগুলিতে মিত্রশক্তি বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে সমর্থন করে।
[iii] ডামবার্টন ওকস সম্মেলন (১৯৪৪): আমেরিকার এই সম্মেলনে পরাশক্তিগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে নতুন সংস্থার খসড়া গঠনতন্ত্র বা নিয়মাবলী তৈরি করেন।

৫. ইয়াল্টা সম্মেলন (Yalta Conference, 1945)

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা শহরে মিলিত হয়ে সংস্থার ভেটো ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি চূড়ান্ত করেন।

৬. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন ও জাতিপুঞ্জের জন্ম (১৯৪৫)

[i] সম্মেলন: ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে 'জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক অঙ্গসংগঠন সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়।
[ii] সনদ স্বাক্ষর: দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রের স্বাক্ষরের মাধ্যমে 'জাতিসংঘের সনদ' অনুমোদিত হয়।
[iii] আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ: অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রতি বছর 'জাতিসংঘ দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

উপসংহার  :

সংক্ষেপে: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যর্থতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার ঐকান্তিক তাগিদেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সম্মিলিতভাবে এই বিশ্ব সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উত্তর শেষ

প্রশ্নটি অন্য যেভাবে আসতে পারে :

  • সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কী? কেন এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়?
  • রাষ্ট্রসঙ্ঘ কী? এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার  কারণ কী ছিল?
  • ঠিক কোন কোন পরিস্থিতিতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গড়ে উঠেছিল? 
  • ইউনাইটেড নেশন্স অর্গানাইজেশন গড়ে উঠেছিল কেন?
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউএনও (UNO) গড়ে তোলার প্রয়োজন হল কেন?
  • UNO এর পুরো নাম কী? কোন ঘটনা পরম্পরায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল?
সপ্তম অধ্যায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :
  1. জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর (রাষ্ট্রসংঘের ) পার্থক্য কী?
  2.  ভেটো বলতে কী বোঝো?
  3. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের নাম লেখো।
  4. নিরাপত্তাপরিষদের দুটি কাজের বর্ণনা দাও?
  5. ডাবল ভেটো কী?
  6. কবে কোন কোন দেশের মধ্যে আটলান্টিক সনদ স্বাক্ষরিত হয়?
  7. লন্ডন ঘোষণাপত্র কী?
  8. ইয়াল্টা সম্মেলন করে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  9. আন্তর্জাতিক বিচারলয় কী?
  10. ইউনিসেফ (UNICEF) এর কাজ কী?
  11. হু (WHO) এর কাজ কী?
  12. অছি পরিষদ কী?

মন্তব্যসমূহ

📘 নবম শ্রেণি 📘 : 👩 যে অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর চাও তাতে ক্লিক করো

------------------------------------------------------------------------

OUR BOOKS FOR WBBSE & WBCHSE

OUR OTHER BOOKS (ICSE & CBSE)

------------------------------------------------------------------------

নবম শ্রেণির জনপ্রিয় প্রশ্নগুলো পড়ো :

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

 ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল Causes and consequences of the Crimean War ক্রিমিয়ার যুদ্ধ : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে রাশিয়া তুরস্ক দখল করার চেষ্টা করলে, বলকান অঞ্চলে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয় যা, বলকান সমস্যা নামে পরিচিত। মূলত এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৮৫৩ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালির পিডমন্ট-সার্ডেনিয়া সহ কিছু দেশ তুরস্কের পক্ষ অবলম্বন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণ কে দু ভাগে ভাগ করা যায়।  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ কারণ : রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধি : অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণে বলকান সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে রাশিয়া ১৮৩০ সালে তুরস্কের কাছ থেকে বসফরাস ও দার্দানেলস প্রণালীতে রুশ জাহাজ চলাচলের অধিকার আদায় করে। রাশিয়ার এই শক্তি বৃদ্ধিতে ইংল্যান্ড ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তুরস্ক দখলের পরিকল্পনা : ১৮৫৩ সালে রাশিয়া ইংল্যান্ড এর কাছে তুরস্ককে ব্যবচ্ছে...

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের পিছনে দার্শনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরো প্রমূখ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবে মন্তেস্কুর অবদান : ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দা স্পিরিট অফ লজ’ । এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি রাজার ‘স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্ব’ নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ‘দ্য পারসিয়ান লেটারস’ -এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে পৃথক করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য ধনবন্টন ও ভোটাধিকারের দাবি করেন। ফরাসি বিপ্লবে ভলতেয়ারের অবদান : ভলতেয়ার ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কাঁদিদ’ -এর মাধ্যমে ফরাসি গির্জার দুর্নীতি কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অনাচারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোল...

ফরাসি বিপ্লবের কারণ

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের জন্য রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারন গুলি আলোচনা কর।  অথবা, ফরাসি বিপ্লবের কারনগুলি আলোচনা কর। ফরাসি বিপ্লব ঃ ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের ইতিহাসে নয়, গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।এই বিপ্লব হওয়ার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা অভাব অভিযোগ। ঐতিহাসিক লেফেভরের-এর মতে ফরাসি বিপ্লবের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে তার অতীত ইতিহাসের মধ্যে। ফরাসি বিপ্লবের কারন ‌ফরাসি বিপ্লবের পিছনে প্রকৃতপক্ষে তিনটি কারণ দায়ী ছিল-  ‌১) রাজনৈতিক কারন ২) সামাজিক কারণ ৩) অর্থনৈতিক কারণ ফরাসি বিপ্লবের  রাজনৈতিক কারন ফরাসি বিপ্লব ছিল প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বুঁরবো রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।রাজারা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা বংশানুক্রমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। রাজাদের দুইরকম ভাবে শাসনকার্য চালাত-- ক) রাজাদের দুর্বল শাসন : ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই(১৬৪৩-১৭১৫ খ্রীঃ) বিলাস ব্যসনে মগ্ন থেকে স্বৈরাচারী ক্ষমতার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।তিনি বলতেন “আমিই রাট্র”। পরবর্তী রাজা...

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল কেন?

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের কারণ ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায়। ১) কৃষি বিপ্লব : নবজাগরণের ফলে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়। নতুন ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। এই কৃষি বিপ্লব শিল্পবিপ্লবকে কাঁচামাল দিয়ে সাহায্য করেছিল। ২) সুলভ শ্রমিক : ষোড়শ শতক থেকে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বর্ধিত জনসংখ্যা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুলভ শ্রমিকের যোগান দিয়েছিল। ৩) মূলধনের প্রাচুর্য : ১৭ শতক থেকে ইংল্যান্ড বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। এই মুনাফা শিল্পের প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিয়েছিল। ৪) বাজার : ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বে জয়লাভের ফলের শিল্প পণ্যের বাজার পেতে সুবিধে হয়েছিল। ৫) খনিজ : শিল্পের প্রয়োজনীয় খনিজসম্পদ যেমন লোহা ও কয়লা ইংল্যান্ডে প্রচুর পাওয়া যেত। ৬) উন্নত পরিবহন : নবজাগরণ ও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এই পরিবহন ব্যবস্থা শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করেছিল। এই সমস্ত অনুকূল পরিবেশ ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে সাহায্য করেছি...

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা

ইতালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির ভূমিকা আলোচনা করো  উ. ভূমিকা: ফরাসী বিপ্লবের আগে প্রায় তিন শতাব্দির বেশি সময় ইতালি পরস্পর বিরোধী বিভিন্ন ছোটবড় রাজ্যে বিভক্ত ছিল. এখানকার অধিকাংশ রাজ্যে বিদেশীদের আধিপত্য ছিল। ইটালির ঐক্য আন্দোলনে গ্যারিবল্ডির অবদান : ইটালির ঐক্য আন্দোলনে যে তিনজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ অসামান্য অবদানের সাক্ষর রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীর দেশপ্রেমিক গ্যারিবল্ডি (১৮০৭-১৮৮২ খ্রি) । ১. আন্দোলনে যোগদান ও দেশত্যাগ: গ্যারিবল্ডি ১৮৩৩ সালে ম্যাটসিনির সংস্পর্শে এসে ইয়ং ইটালি দলের সদস্য হন। তিনি ম্যাৎসিনি নেতৃত্বে স্যাভয়-এর বিদ্রোহে যোগ দিলে তার প্রাণদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। ২. ১৮৪৮ এর বিপ্লব : ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিতে বিপ্লব শুরু হলে, গ্যারিবোল্ডি ইতালিতে ফিরে আসেন এবং রোমে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ম্যাৎসিনি অন্যতম সহকারী হিসাবে কাজ করেন। ৩. সিসিলি ও নেপলস জয় : গ্যারিবোল্ডি ‘লাল কোর্তা’ নামে সেনাদল গঠন করে দক্ষিন ইটালির সিসিলি ও নেপলস অভিযান করেন। সেখানকার বুরব রাজবংশকে পরাস্ত করে তিনি সিসিলি ও নেপলস (১৮৬০ খ্রি:) করেন। ৪. প্রজাতন...

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?

নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় - কারণ ব্যাখ্যা কর। নেপনিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন? নেপোলিয়ান এক অতি সাধারন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফ্রান্সের সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের উন্মেষ ঘটেছিল, তার সৌজন্যেই। আর একারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবের সন্তান। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতার আদর্শকে তিনি আজীবন সম্মান দেখাননি। নেপনিয়নকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলার কারণ : তাঁর এই বিপ্লবের সন্তান হয়ে ওঠার পিছনে আরও যেসব সমস্ত বিষয় গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা নিয়েছিল তা হল : ১) বিপ্লবী আদর্শের বাস্তবায়ন : ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের সংবিধান সভা সে-দেশ থেকে সামন্ত প্রথা, ভূমিদাস প্রথা, করভি বা বেগর শ্রম, টাইট বা ধর্মকর ইত্যাদি বিলোপ ঘটিয়েছিল। নেপোলিয়ান ক্ষমতায় আসার পর বিপ্লবী সরকারের এইসব নিয়মকে সচেতন ভাবেই বহাল রেখেছিলেন। ২) বিপ্লবী আদর্শের প্রসার : শুধু বহাল রাখাই নয়, বিপ্লবের মূল মন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩) পুরাতন তন্ত্রের ধ্বংস সাধন : ফ্রান্সের ...

কোড নেপোলিয়ন কী?

কোড নেপোলিয়ন বলতে কী বোঝো? কোড নেপোলিয়ন-এর মাধ্যমে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কীভাবে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করেন? কোড নেপোলিয়ন কী ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সংস্কার কর্মসূচিগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হল ‘কোড নেপোলিয়ন’ (Code Napoleon) বা আইনবিধি প্রবর্তন। তার শাসনকালের পূর্বে ফ্রান্সের নানা স্থানে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক ও পরস্পরবিরোধী আইন প্রচলিত ছিল। নেপোলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সে একই ধরনের আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে ৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আইনবিধি সংকলিত হয়, তা ‘কোড নেপোলিয়ন’  নামে খ্যাত। কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য ঃ ২২৮৭টি বিধি সংবলিত এই আইন সংহিতা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল— দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক আইন। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এই আইন সংহিতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।  নেপোলিয়ন বিপ্লবের আদর্শ, প্রাকৃতিক আইন ও রোমান আইনের সমন্বয় সাধন করে কোড নেপোলিয়ন রচনা করেছিলেন। প্রথমত: এই আইনের ফল...

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি

ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতিগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি ১৮১৫ সালে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ ইউরোপের পুনর্গঠন এর উদ্দেশ্যে যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা ভিয়েনা সম্মেলনের মূলনীতি নামে পরিচিত। এই নীতি গুলি ছিল ১) ন্যায্য অধিকার নীতি ২) ক্ষতিপূরণ নীতি এবং ৩) শক্তিসাম্য নীতি। ভিয়েনা সম্মেলনের মূল নীতিগুলি হল, ১ ) ন্যায্য অধিকার নীতি :  এই নীতির মূল কথা হলো ইউরোপে বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজবংশ গুলিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এই নীতির ফলে ফ্রান্সে বুুুরবোঁ বংশ হল্যান্ডে  অরেঞ্জ বংশ , তা নিয়ায় ভিদ্মতে  সাতবাহন বংশ এবং  মধ্য ইতালীতে  পোপ  ক্ষমতা লাভ করে। ২) ক্ষতিপূরণ নীতি :   এই নীতির মূল কথা হলো ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই নীতি প্রয়োগ করে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরের নেপোলিয়ন অধিকৃত ভূখণ্ড গুলি ভাগাভাগিি করে। ৩) শক্তিসাম্য নীতি :  ভবিষ্যতে ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি নষ্ট না করতে তা নিশ্চিত করা এই নীতির মূল লক...

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গের পতন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক 'বাস্তিল দুর্গ' ধ্বংসের গুরুত্ব কী ছিল? ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করে প্যারিসও ভার্সাই-এ সেনা মোতায়েন করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই উত্তেজিত জনতা প্যারিসের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ দখল এবং ধ্বংস করে। বাস্তিল দুর্গের পতন ইতিহাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব : প্রথমত, বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক। এই বিশাল দুর্গে রাজা ও রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাজা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। দার্শনিক ভলতেয়ারও রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার জন্য বাস্তিল দুর্গে বন্দি ছিলেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে ফরাসি রাজতন্ত্রের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতার দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ফরাসিরাজতন্ত্রের গর্বের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ ধ্বংসের ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে অনেকগুলি ধাপ অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, বাস্তিল দুর্গের পতন প্রমাণ করেছিল যে রাজ...

জোলভেরাইন কী?

জোলভেরাইন কী? জোলভেরাইন কী? ‘ জোলভেরাইন ’ হল একটি শুল্ক সংঘের নাম। ১৮১৯ সালে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে এই সংস্থা প্রাশিয়া সহ অন্যান্য জার্মান রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাস্পরিক সহযোগিতার জন্য গড়ে তোলা হয়। জার্মান অর্থনীতিবিদ ম্যাজেন ছিলেন এর প্রধান উদ্যোক্তা। জোলভেরাইন-এর উদ্দেশ্য  হল : সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একই হারে সীমান্ত শুল্ক আরোপ করা, আদায়ীকৃত অর্থ জনসংখ্যার অনুপাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্টন করা, জার্মান ভাষাভাষী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অবাধ বাণিজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সর্বপরি জার্মান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার পথ প্রস্তুত করা। এইভাবে জোলভারেইন জার্মানির ঐক্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ঐতিহাসিক ম্যারিয়টের মতে, “জোলভারেইন হল জার্মানিকরণের প্রথম সোপান” । ------------xx----------- এই প্রশ্নের বিকল্প প্রশ্ন হল : কে, কী উদ্দেশ্যে ‘জোলভেরাইন’ গঠন করেছিলেন? ‘জোলভেরাইন’ গঠনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী ছিল? জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ‘জোলভেরাইন’ গঠনের গুরুত্ব কতটা? এই বিষয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও...